ঢাকা , সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬ , ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রামে কর্মকর্তা আলী আযম খানের বিরুদ্ধে শত কোটি টাকার সম্পদের অভিযোগ, স্ত্রীর নামে ৭ তলা ভবন

আপলোড সময় : ২৭-০৪-২০২৬ ০৫:১৬:২১ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ২৭-০৪-২০২৬ ০৫:১৬:২১ অপরাহ্ন
চট্টগ্রামে কর্মকর্তা আলী আযম খানের বিরুদ্ধে শত কোটি টাকার সম্পদের অভিযোগ, স্ত্রীর নামে ৭ তলা ভবন চট্টগ্রামে কর্মকর্তা আলী আযম খানের বিরুদ্ধে শত কোটি টাকার সম্পদের অভিযোগ, স্ত্রীর নামে ৭ তলা ভবন

 চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের সাধারণ শাখার উপ-সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা এইচ এম আলী আযম খানের বিরুদ্ধে বিপুল অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও কমিশন বাণিজ্যের মাধ্যমে তিনি শত কোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন।

সম্পদের বিবরণ (সহজ ব্যাখ্যা):
অভিযোগে বলা হয়েছে, নিজের নামে কম দেখালেও স্ত্রী, ভাই ও অন্যান্য স্বজনদের নামে বিপুল সম্পদ গড়ে তুলেছেন তিনি।

  • স্ত্রীর নামে কেনা জমিতে চট্টগ্রাম নগরীতে নির্মাণ করেছেন বিলাসবহুল ৭ তলা ‘ড্যাফোডিল ভবন’, যার মূল্য প্রায় ২০ কোটি টাকা।
  • একটি প্রাইভেটকার (প্রিমিও) ব্যবহার করেন, যার মূল্য প্রায় ৩৭ লাখ টাকার বেশি।
  • চট্টগ্রাম মহানগর ও আনোয়ারা উপজেলায় পরিবারের সদস্যদের নামে সারি সারি জমি কেনার অভিযোগ রয়েছে।
  • বিভিন্ন ব্যাংকে স্বজনদের হিসাবে বিপুল পরিমাণ টাকা জমা রাখার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

জমি দখলের অভিযোগ:
স্থানীয়দের অভিযোগ, সম্পদের প্রভাব খাটিয়ে তিনি এলাকায় প্রভাবশালী হয়ে উঠেছেন এবং সাধারণ মানুষের জমি-পুকুর দখল করেছেন। ভুক্তভোগীরা জানান, প্রতিবাদ করলে হুমকি, পুলিশি হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হতে হয়।

এক ভুক্তভোগী সমির উদ্দিন অভিযোগ করেন, তার প্রায় ১২ গণ্ডা জমি জোরপূর্বক দখল করে সেখানে দেয়াল নির্মাণ করা হয়েছে এবং তাকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে তিনি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অতিরিক্ত তথ্য ও নথি:
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ২০১৮ সালে তিনি প্রায় ৫ কোটি ২৩ লাখ টাকা মূল্যে ১০ একর জমি কিনেছেন, যেখানে নিজেকে “ব্যবসায়ী” হিসেবে উল্লেখ করেন। অথচ তিনি সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

দুর্নীতির ধরন (ব্যাখ্যা):
অভিযোগ অনুযায়ী, ভূমি অধিগ্রহণের সময় ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকদের কাছ থেকে ১০–১৫% পর্যন্ত কমিশন নেওয়া হতো। এই কমিশনের টাকাই তার সম্পদের মূল উৎস বলে দাবি করা হয়েছে।

এতে শুধু তিনি নন, একটি বড় সিন্ডিকেট জড়িত ছিল—যার মধ্যে ভূমি অফিসের বিভিন্ন কর্মকর্তা, ব্যাংক কর্মকর্তা, দালালচক্র এবং কিছু সাংবাদিকও ছিল বলে অভিযোগে বলা হয়।

দুদকের তৎপরতা:
দুর্নীতি দমন কমিশনের একটি টিম সম্প্রতি তার গ্রামের বাড়ি পরিদর্শন করেছে এবং চট্টগ্রাম শহরসহ বিভিন্ন স্থানে তার সম্পদের খোঁজ করছে।

অভিযুক্তের বক্তব্য:
এইচ এম আলী আযম খান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তার নিজের নামে কোনো জমি, ভবন বা গাড়ি নেই। তিনি দাবি করেন, অন্যের সম্পদ তার নামে প্রচার করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, এক প্রতিবেশীর সঙ্গে জমি সংক্রান্ত বিরোধের কারণেই এসব অভিযোগ আনা হচ্ছে।

প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া:
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক জানান, এ ধরনের কোনো অভিযোগ তার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আসেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সংক্ষেপে:
অভিযোগ অনুযায়ী, সরকারি দায়িত্বে থেকে ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিপুল সম্পদ গড়ে তোলার পাশাপাশি তা আড়াল করতে আত্মীয়স্বজনদের নামে সম্পদ রাখার কৌশল নিয়েছেন আলী আযম খান। তবে বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাই প্রক্রিয়ায় রয়েছে।


নিউজটি আপডেট করেছেন : News Upload

কমেন্ট বক্স

প্রতিবেদকের তথ্য

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ